জরিমানা মওকুফে পদ্মা লাইফের আপিল খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জরিমানা মওকুফের জন্য করা পদ্মা ইসলামী লাইফের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরপরও জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে কোম্পানিটির নিবন্ধন বাতিল করার সিদ্ধান্ত দিবে আইডিআরএ। আইডিআরএ সূত্র জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর আইডিআরএ কার্যালয়ে পদ্মা লাইফের পরিচালকদের করা আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের জানিয়ে দেয়া হয় জরিমানা মওকুফ করা হবে না। আইডিআরএ থেকে চিঠি দেয়ার ৭ দিনের মধ্যেই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আইডিআরএ থেকে কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগে অনিয়ম করায় পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত এই জীবন বীমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যেক সদস্যকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এই জরিমানা মওকুফের জন্য পদ্মা লাইফের পরিচালকরা দু’দফা আইডিআরএ’র কাছে চিঠি দিয়ে আবেদন করে। কিন্তু আইডিআরএ তাদের সে আবেদন আমলে নেয়নি। এরপর কোম্পানিটির পরিচালকরা বীমা আইন অনুযায়ী জরিমানা মওকুফের জন্য আইডিআরএ’র কাছে আপিল করে। ওই শুনানিতে নিরপেক্ষ পরিচালক নিয়োগের অনিয়মের বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে হুশিয়ারি করা হয়। আইডিআরএ জানিয়েছে, পদ্মা লাইফে নিরপেক্ষ পরিচালক হিসেবে ৪ জন পরিচালক রয়েছে। কিন্তু বীমা আইন অনুযায়ী একটি কোম্পানি ২ জনের বেশি পরিচালক থাকতে পারবে না। এ জন্য শিগগির পদ্মা লাইফে নিরপেক্ষ পরিচালক ২ জনে নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে। তা না হলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে উদ্যোক্তা পরিচালক, নিরপেক্ষ পরিচালক ও শেয়ার গ্রহীতা পরিচালক হিসেবে মোট ২০ জন পরিচালক রয়েছে। এরমধ্যে শেয়ার গ্রহীতা পরিচালক ৪ জন ও নিরপেক্ষ পরিচালক ৪ জন। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন পরিচালকের প্রত্যেককে ব্যক্তিগত ভাবে ১ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সূত্রটি জানায়, সিইও নিয়োগে অনিয়ম করায় চলতি বছরের ১ এপ্রিল এক শুনানির মাধ্যমে পদ্মা লাইফের পরিচালকদের জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয় বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। এরপর ২৮ মে পদ্মা লাইফকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইডিআরএ’র ওই চিঠির প্রেক্ষিতে ৭ জুন ১৯টি চিঠির মাধ্যমে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জরিমানা মওকুফের জন্য আইডিআরএ’তে আবেদন করে। এই আবেদনের পর ১১ অক্টোবর চিঠির মাধ্যমে আইডিআরএ পদ্মা লাইফের পরিচালকদের জানায় জরিমানা মওকুফের সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে আবারও জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এরপর ১৯ অক্টোবর আবার জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন করে পদ্মা লাইফ। আইডিআরএ সূত্র জানায়, একবার জরিমানা মওকুফ করা হবে না জানানোর পরও পদ্মা লাইফের পরিচালকরা দ্বিতীয় দফায় আবেদন করেছেন। তবে এ দফাতেও প্রতিষ্ঠানটির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এরপর পদ্মা লাইফের প্রত্যেক পরিচালক ১ হাজার টাকা ফি দিয়ে আইডিআরএ’র কাছে জরিমানা মওকুফের জন্য আপিল করে। আইডিআরএ সূত্র জানায়, শিগগির আইডিআরএ থেকে জরিমানা পরিশোধের বিষয়ে পদ্মা লাইফের পরিচালকদের চিঠি দেয়া হবে। ওই চিঠিতে জরিমানা পরিশোধের জন্য ৭ দিন সময় দেয়া হবে। এ নির্দেশ লঙ্ঘন করলে বিমা আইন ২০১০’র ১০ ধরা অনুযায়ী পদ্মা লাইফের নিবন্ধন সনদ স্থগিত অথবা বাতিল করা হতে পারে। সূত্রটি জানায়, সিইও নিয়োগে পদ্মা ইসলামী লাইফ বীমা আইন, ২০১০ এর ৮০(৪) ধারা ও ‘বীমা কোম্পানি (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ) প্রবিধানমালা, ২০১২’ লঙ্ঘন করেছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে গত ১ এপ্রিল শুনানিতে ডাকা হয়। ওই শুনানীতে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে ১ মে’র মধ্যে সিইও নিয়োগ দেয়া না হলে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে জারিমানা করা হবে বলে জনিয়ে দেয়া হয়। সূত্রটি আরও জানায়, পদ্মা ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে শূন্য রয়েছে। যে কারণে আইনের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে ২০১৪ সালের ৫ মে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য পদ্মা ইসলামী লাইফকে চিঠি দেয় আইডিআরএ।