নিরীক্ষা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান আইডিআরএ চেয়ারম্যানের

ননলাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ে যে নিরীক্ষা শুরু হয়েছে তা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ একচ্যুয়ারি। বীমা খাত উন্নয়নের অংশ হিসেবে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিসমূহের ব্যবস্থাপনা ব্যয় বিষয়ে অডিট করার জন্য কর্তৃপক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে কোম্পানির প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং কোম্পানি সংশোধনের সুযোগ পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক মতবিনিময় ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আজ ২৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় আইডিআরএ’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এ মতবিনিময় ও দোয়া মাহফিল। এতে সভাপতিত্ব করেন কর্তৃপক্ষের সদস্য মোঃ কুদ্দুস খান। সংস্থাটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এম. শেফাক আহমেদ বলেন, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমাতে ২০১২ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে আইডিআরএ। এর ফলে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় উল্লেখযোগ্যহারে কমে গেছে। অনেকের ক্ষেত্রে শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে। এ ব্যয় আরও কমে যবে। এতে বীমা গ্রহীতা এবং কোম্পানি ও কোম্পানির এমপ্লয়িরা উপকৃত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ প্রধান। দেশের মাত্র শতকরা ৩ থেকে ৪ ভাগ মানুষ বীমার আওতাভূক্ত। কিন্তু শুধুমাত্র ল্যাপস্ ও পেইডআপ এর গ্রাহক সংখ্যা ধরলে এ সংখ্যা কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে, এমন তথ্য জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে হবে এবং গ্রাহককে বীমামুখী করতে হবে। দেশের মানুষ বীমামুখী হলে পাশ্ববর্তী দেশগুলোর ন্যায় এদেশের বীমা পেনিটেশন অনেক বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি । জনগণকে বীমামূখী করতে উন্নত প্রোডাক্ট নিয়ে আসা, বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা, সুসাশন প্রতিষ্ঠা করার, ব্যাংকএস্যুরেন্স করা, পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার বিষয়ে বীমাকারীদের পরামর্শ দেন। সময়ের চাহিদা পূরণে বীমাখাতও পিছিয়ে থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সকল বীমা কোম্পানি এবং কর্তৃপক্ষকে আইটি’র আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় কর্তৃপক্ষের আইটি উন্নত করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সকল বীমা কোম্পানিকে এর আওতায় আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পলিসি হোল্ডারদের ভাগ্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের হাতে। তাদের কাজের উপরেই কোম্পানির উন্নয়ন নির্ভর করে। সভাপতির বক্তব্যে মোঃ কুদ্দুস খান বিগত ৬ বছরে কর্তৃপক্ষের সাফল্য ও ব্যর্থতা তুলে ধরে বীমা শিল্পের প্রসারে সকলের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বীমা শিল্পের উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্তৃপক্ষের সদস্য মোঃ মুরশিদ আলম, সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা, জুবের আহমেদ খাঁন, সাধারণ বীমা কর্পোরশেন ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোঃ সোহরাব উদ্দিন, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও পপুলার লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী। এছাড়াও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আহসানুল হক টিটু, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মোঃ হেমায়েত উল্লাহ, রুপালী ইন্স্যুরেন্সের পৃথ্বীশ কুমার রায় বক্তব্য রাখেন।