বন্ধ হচ্ছে ফিলিপাইনের ৪ বীমা কোম্পানি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ফিলিপাইনের ৩টি নন-লাইফ ও ১টি লাইফ বীমা কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংশোধিত বীমা বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম সম্পদের প্রয়োজন পূরণ করতে না পেরে কোম্পানিগুলো স্বেচ্ছায় তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির বীমাখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স কমিশন (আইসি) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশোধিত বীমা বিধি অনুসারে, ফিলিপাইনে ব্যবসা পরিচালনাকারি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর নূন্যতম মূলধনের পরিমাণ ৫৫০ মিলিয়ন পেসো বা ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নথিভুক্ত থাকতে হবে। এর আগে ২০১৩ সালের শেষ নাগাদ এই নূন্যতম সম্পদের শর্ত নির্ধারণ ছিল ২৫০ মিলিয়ন পেসো।

নব-নিযুক্ত ইন্স্যুরেন্স কমিশনার ডেনিস ফিউনা জানিয়েছেন, আগামীতে আরো দু’দফা বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য নূন্যতম মূলধনের শর্ত বৃদ্ধি করা হবে। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ কোম্পানিগুলোর সম্পদের নূন্যতম পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ৯০০ মিলিয়ন পেসো এবং ২০২২ সালের শেষ নাগাদ তা হবে ১.৩ বিলিয়ন পেসো।

এ অবস্থায় ৮টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি ৫৫০ মিলিয়ন পেসো নূন্যতম পরিশোধিত মূলধনের প্রয়োজন পূরণে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য তারা একীভূতকরণ এবং গ্রহণের পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া দু’টি নন-লাইফ কোম্পানি নতুন বিনিয়োগকারি গ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে কোম্পানিগুলোর নাম প্রকাশ করেননি ফিউনা।

ইন্স্যুরেন্স কমিশনার ডেনিস ফিউনা আরো বলেন, আমরা এখন তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করছি। যাইহোক, স্বেচ্ছায় কার্যক্রম বন্ধ অথবা অঙ্গীভূতকরণ/সংহতকারণের পরিকল্পনা অনুমোদনের পরই কেবল আমরা তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারি। ফিলিপাইনের দৈনিক ইনকুয়ারার’কে এসব কথা বলেন ডেনিস।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুসারে, ফিলিপাইনের বীমা শিল্পের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.৩২ ট্রিলিয়ন ফিলিপাইনি পেসো বা ২৬.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরআগে ২০১৫ সালের একই সময়ে এই সম্পদের পরিমাণ ছিল ১.০৮ ট্রিলিয়ন ফিলিপাইনি পেসো বা ২১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে হিসাবে ২০১৬ সালের ২২.২ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইন্স্যুরেন্স কমিশনের তথ্য মতে, ৬৬টি নন-লাইফ ওব ২৭টি লাইফ বীমা কোম্পানি ফিলিপাইনে বীমা ব্যবসা পরিচালনা করছে। এরমধ্যে ২৪টি লাইফ ১৩টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি ২০১৫ সালের হিসাব মতে ৫৫০ মিলিয়ন পেসো সম্পদের শর্ত পূর্ণ করে। আর ১০টি নন-লাইফ কোম্পানির অল্প কিছু সম্পদের প্রয়োজন শর্ত পূরণে।

কঠোর শর্তারোপের কারণে বীমা কোম্পানির সংখ্যা হ্রাস পাবে। তবে মূলধন বৃদ্ধির শর্তের কারণে বীমাখাতের সম্পদের পরিমাণ বাড়বে। অতিরিক্ত মূলধনের মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোকে স্থিতিশীল করার এই পদক্ষেপ ফিলিপাইনের বীমাখাতকে আরো শক্তিশালী করবে এবং বীমা গ্রহীতারা সুবিধা পাবে বলে বিশ্বাস করেন নব-নিযুক্ত ইন্স্যুরেন্স কমিশনার ডেনিস ফিউনা।